হ্লাথোয়াইছা চাক, রাবি প্রতিনিধিঃ
খাগড়াছড়ির ভাইবোনছড়াতে আদিবাসী ত্রিপুরা অষ্টম শ্রেণির পড়ুয়া কিশোরীকে ছয়জন বাঙালি সেটেলার কতৃক সংঘবদ্ধ ধর্ষণের প্রতিবাদে এবং ধর্ষণকারীদের দৃষ্টান্তমূলক সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে বিক্ষোভ করেছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় (রাবি) ও রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) আদিবাসী শিক্ষার্থীরা।
শুক্রবার (১৮ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটা দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে ‘রাবি ও রুয়েট আদিবাসী শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বিক্ষোভকারীরা ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শেষে জোহা চত্বরের পাশে এসে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ করেন।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করেন, পাহাড়ি নারীদের ওপর সহিংসতা ও ধর্ষণের ঘটনা এখন নিত্যনৈমিত্তিক হয়ে উঠেছে। এসব ঘটনায় প্রশাসন ও রাষ্ট্রের নির্লিপ্ততা রয়েছে বলেও তারা অভিযোগ তোলেন।
সমাজকর্ম বিভাগে দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী শামীন ত্রিপুরা বলেন,ভাইবোনছড়ায় যে ধর্ষণকান্ড সেটি শুধুমাত্র একটা ধর্ষণ নয় একই সাথে জাতিগত নিপীড়নের অংশ।ভিকটিমকে তার আশ্রয় স্থলে গিয়ে যেভাবে গণধর্ষণ করা হলো, সে ঘটনা পুরো পাহাড়ের নারী নিরাপত্তাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।সে ঘটনার প্রতিবাদে যখন তার সহপাঠীরা প্রতিবাদ করলো সেখানে সেনা-প্রশাসনও বাধা দিয়ে পাহাড়ের গণতান্ত্রিক ও মানবাধিকার অধিকারকে লন্ঠিত করে।এর বিরুদ্ধে আমি তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই।
সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূতত্ত্ব ও খনিবিদ্যা বিভাগের শিক্ষার্থী রিছার্চ চাকমা বলেন, “পাহাড়ি নারীরা আজ নিজেদের ঘরে কিংবা বাইরে—কোথাও নিরাপদ নয়। আমরা বারবার অন্যায় ও নির্যাতনের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে গেলেই হামলার শিকার হতে হয়। কিন্তু মনে রাখতে হবে, যদি আমরা একসঙ্গে রুখে দাঁড়াই, তবে পার্বত্য চট্টগ্রাম অচল হয়ে পড়বে। বিচারহীনতার সংস্কৃতি এবং প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা এই অঞ্চলে একের পর এক ধর্ষণের মতো নৃশংস ঘটনার জন্ম দিচ্ছে। খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটির প্রশাসন ধর্ষকদের আশ্রয়-প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেই এসব অপরাধীর সাহস বাড়ছে।”
এছাড়া আরোও বক্তব্য দেন ইলেকট্রিক্যাল অ্যান্ড ইলেকট্রনিক ইঞ্জিনিয়ারিং
বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী পাপেল চাকমা বলেন, ১৬ জুলাই খাগড়াছড়ি জেলার য় রাতে বাড়িতে ঢুকে ছয়জন বাঙালি সেটেলার মিলে এক ত্রিপুরা পাহাড়ি তরুণীকে পালাক্রমে ধর্ষণ করে।
এই ঘটনায় অভিযুক্তদের গ্রেফতার করা হলেও তাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনার চিহ্ন দেখা যায়নি। বরং তারা হাস্যোজ্জ্বল মুখে ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছে। কারণ তারা ভালো করেই জানে—বাংলাদেশের আইনব্যবস্থা কতটা দুর্বল। কিছুদিনের মধ্যেই তারা হয়তো জামিনে বের হয়ে আসবে, আর এই ঘটনার বিচার থেকে জনগণ বঞ্চিত হবে, যেমনটা অতীতে বহুবার হয়েছে।
পার্বত্য চট্টগ্রামে এ ধরনের বর্বরতা যেন নিত্যদিনের ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছে। ধর্ষণ, খুন, দখল, নিপীড়ন—কোনোটাই নতুন নয়। এর আগে বান্দরবানের গৃহবধূ চিংমা খেয়াংকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল। আজও সেই ঘটনার বিচার হয়নি।
আর যখন আমরা এই অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলি, তখনই আমাদের ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’, ‘বিদ্রোহী’, ‘পাহাড় আলাদা করার চক্রান্তকারী’ ইত্যাদি তকমা দিয়ে চুপ করিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করে। কিন্তু প্রশ্ন হলো—নিজভূমে আমরা নিরাপত্তা চাইলে, ন্যায়বিচার দাবি করলে সেটা কীভাবে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হয়?
আমরা পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, ধর্ষণের মতো নৃশংস অপরাধের একমাত্র শাস্তি হওয়া উচিত মৃত্যুদণ্ড। যদি বারবার ধর্ষকদের ছেড়ে দেওয়া হয়, তাহলে প্রতিনিয়ত আমাদের মা-বোনেরা এমন নির্মমতার শিকার হতেই থাকবে। প্রশাসনের প্রতি আমার আহ্বান— থাকবে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করুন। নইলে পাহাড়ে আর কোনো নারী নিরাপদ থাকবে না।
বিক্ষোভ চলাকালে অংশগ্রহণকারীরা বিভিন্ন প্রতিবাদী স্লোগান দেন।—
“ধর্ষকের ঠিকানা, সিএইচটিতে হবেনা”, “পাহাড় থেকে সমতলে, লড়াই হবে সমানতালে”, “ফাঁসি ফাঁসি, ফাঁসি চাই ধর্ষকদের ফাঁসি চাই”, “আদিবাসী নারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত কর”, “পার্বত্য চট্টগ্রাম চুক্তি বাস্তবায়ন কর” এবং “আমার বোন ধর্ষিত কেন? রাষ্ট্র, তোমার জবাব চাই”।
অবিলম্বে ধর্ষণের ঘটনায় দোষীদের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন আদিবাসী শিক্ষার্থীরা। একইসঙ্গে, পার্বত্য শান্তিচুক্তি বাস্তবায়নে পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোর দাবি জানান।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM