ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধিঃ
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ে (ইবি) অর্থনীতি বিভাগের আন্তঃসেশন ফুটবল টুর্নামেন্টে দুই দলের সংঘর্ষের ভিডিও সংগ্রহকালে তিন সাংবাদিকের ওপর হামলার ঘটনায় কমিউনিকেশন অ্যান্ড মাল্টিমিডিয়া জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীরা তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন। রোববার দুপুর দেড়টায় প্রশাসন ভবনের সামনে তারা মানববন্ধনের মাধ্যমে এই প্রতিবাদ তুলে ধরেন।
মানববন্ধনে শিক্ষার্থীরা 'সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ মানি না, মানবো না', 'গণমাধ্যম রুখে দাঁড়াক, নির্যাতনের প্রতিবাদ হোক', 'যতই করো হামলা, কলম মোদের থামবে না', 'অপরাধ কোনটি—সাংবাদিকতা না হামলা?'—প্রভৃতি স্লোগান সংবলিত প্ল্যাকার্ড ধারণ করেন।
বক্তারা তাদের বক্তব্যে উল্লেখ করেন: "সংবাদ সংগ্রহের সময় যেভাবে সাংবাদিকদের ওপর ন্যাক্কারজনকভাবে হামলা করা হয়েছে, আমরা তার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাই। জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশে এমন ঘটনা আমরা আশা করিনি। একজন সাংবাদিকের প্রথম কাজ হচ্ছে যেকোনো ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে তথ্য সংগ্রহ ও যাচাই–বাছাই করে সংবাদ তৈরি করা। তথ্য সংগ্রহ করতে গিয়ে যদি এরকম হামলার শিকার হতে হয়, তাহলে সাংবাদিকরা কাজ করবে কীভাবে?"
বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী শামীম হোসেন বলেন:
"গতকাল আমাদের সহপাঠী সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে মারধরের শিকার হয়েছেন। একজন সাংবাদিক হিসেবে অপর সাংবাদিককে মারধর করা হচ্ছিল—এটা অবশ্যই একটি নিউজ। সেই ঘটনা ভিডিও করতে যাওয়া তার পেশাগত দায়িত্ব। এখানে মূল বিষয় হলো—একজন সাংবাদিককে প্রহার করা হচ্ছিল, আর সেটি ভিডিও করতে গেলে তাকেও নির্মমভাবে প্রহার করা হয়। এটি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। প্রশাসনের কাছে আমরা অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি।"
ক্যাম্পাস সূত্রে জানা যায়, গত শনিবার বিকেল পাঁচটার দিকে অর্থনীতি বিভাগের ২০২০–২১ ও ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের ফুটবল ম্যাচ চলাকালে দুই দলের মধ্যে বিবাদের জেরে মারামারি সংঘটিত হয়। এ সময় এক সাংবাদিক ভিডিও ধারণ করতে এগিয়ে এলে অর্থনীতি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আফসানা পারভীন টীনা তার ফোন ছিনিয়ে নেন। পরবর্তীতে ঘটনাস্থলে আসা অন্য সাংবাদিকদের ওপরও দলবদ্ধভাবে হামলা চালানো হয়।
ঘটনায় জড়িত অভিযুক্তদের মধ্যে অর্থনীতি বিভাগের ২০২০–২১ শিক্ষাবর্ষের আফসানা পারভীন টীনা, নাহিদ হাসান, মিনহাজ, সৌরভ দত্ত, পান্না এবং ২০২২–২৩ শিক্ষাবর্ষের সাইফুল, হৃদয়, রাকিব, অজিল, মশিউর রহমান রিয়নসহ প্রায় ২০–২৫ জন শিক্ষার্থীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে।
জার্নালিজম বিভাগের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে হামলাকারীদের তাৎক্ষণিক শনাক্তকরণ, দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং ক্যাম্পাসে সাংবাদিকদের পেশাগত নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জোরালো দাবি জানিয়েছেন।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM