রাজশাহী ব্যুরোঃ
রাজনীতি করতেন না, পরিচিত ছিলেন একজন পরিশ্রমী মানুষ হিসেবে। কিন্তু তার অপরাধ একটাই তিনি চাঁদা দেননি। আর সেই ‘অপরাধেই’ তাকে প্রকাশ্যে নির্মমভাবে খুন করা হলো। তিনি আর কেউ নন , পুরান ঢাকার এক সাধারণ ব্যবসায়ী।
মানুষের সামনে, রাস্তায় প্রকাশ্য দিবালোকে রাস্তায়। খুন করার পর তার নিথর দেহের উপর উঠে ঘৃনিত নৃত্য পরিবেশন করল খুনিরা । আসে পাশে উৎসুক জনতা কেউ এগিয়ে আসেনি। সাহস করেনি। কারণ, খুনি লোকটা একজন প্রভাবশালী দলের নেতা।
এই লজ্জা কার? রাষ্ট্রের? নাকি আমাদের সবার?
একজন মানুষকে খুন করে, তার লাশের উপর দাঁড়িয়ে নাচে যাদের মন গলে না তারা মানুষ না, তারা সমাজের ভয়ংকরতম বিকৃতি।
ডিএমপির একজন অতিরিক্ত কমিশনার বলেছেন, “রক্তাক্ত লাশের সাথে যা হয়েছে, তা চিন্তার বাইরে।” কিন্তু আমরা কি আর চিন্তা করি? না কি ভাবনার ক্ষমতা হারিয়েছি অনেক আগেই?
এই বাংলাদেশ কি আমরা চেয়েছিলাম!!! যেখানে রাজনৈতিক পরিচয় বর্ম হয়ে দাঁড়ায়, আর ন্যায়ের কণ্ঠ রুদ্ধ হয়ে যায় ভয় আর নির্লজ্জ নিরবতায়!!!
আজকে, ৫ আগস্টের পর 'দেশের মালিক' হয়ে ওঠা রাজনৈতিক গোষ্ঠীর কাছে মাথা না ঝোকানোর দায়ে একজন সাধারণ মানুষকে প্রকাশ্যে হত্যা করা হয়।
নতুন দিনের স্বপ্ন আমরা দেখি ঠিকই, নতুন সংবিধানের কথা বলি, 'হাসিনা মুক্ত' আর 'আওয়ামী লীগ মুক্ত' বাংলাদেশ গড়ার কথা বলি। কিন্তু এই বাংলাদেশে যদি চাঁদা না দিলেই জীবন কেড়ে নেওয়া হয়, তাহলে সেই স্বপ্ন শুধু ধোঁয়া হয়ে মিলিয়ে যায়।
সবাই চুপ। কেউ কিছু বলে না। কেউ প্রতিবাদ করে না। শুধু একটা লাশ পড়ে থাকে রাস্তায়, আর আমরা মুখ ফিরিয়ে নেই। আজ আমরা মুখ ফিরিয়ে নিয়েছি কিন্তু কাল আমাদের উপরেই এসেই পড়বে।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে হত্যার ভিডিও ভাইরাল হলেও আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কি পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে ,টা এখনো জনসম্মুখে প্রকাশিত হয় নাই বা আইন শৃঙ্খলা বাহিনী কোনো বক্তব্য প্রদান করেন নাই ।
উপরের দিকে থুথু ফেললে নিজের গায়ে এসেই পড়ে।
এই নীরবতা, এই লজ্জা কোথায় রাখি!!!!!
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM