ইমদাদুল হক রানা, রাজবাড়ী থেকে:
রাজবাড়ী জেলার বালিয়াকান্দি উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়নের গাবলার বিলের কৃষকরা বর্তমানে চরম বিপদের মুখে। এলাকার অপরিকল্পিত রিং কালভার্টের কারণে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে আসছে, যার ফলে কয়েক হাজার বিঘা জমির ফসল অনিশ্চয়তায় পড়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গাবলার বিলের চারপাশে রয়েছে বহরপুর-বওনারা সড়ক, হলুদবারিয়া-রাজধরপুর সড়ক এবং বহরপুর কলেজ থেকে ভাতসালা হয়ে রাজধরপুর সড়ক। ৬ বছর আগে বিলের পানি নিষ্কাশনের জন্য খাল খনন করে গজারিয়া খালে সংযুক্ত করা হয়, যা হড়াই নদীর সঙ্গে সংযুক্ত। খাল খনন পরিকল্পিত হলেও, ভাতসালা-রাজধরপুর সড়কে নির্মিত উঁচু রিং কালভার্টটি এখন পানি চলাচলের বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সমতল ভূমি থেকে প্রায় চার-পাঁচ ফুট উঁচুতে নির্মিত ওই কালভার্ট দিয়ে পানি বের হতে পারছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই বিলের শত শত বিঘা জমি পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি টানা বৃষ্টিতে পুরো বিল পানির নিচে নিমজ্জিত হয়ে পড়ে। এতে জমির পাটগাছসহ অন্যান্য ফসল পচে যাচ্ছে, ফলে কৃষকরা চরম হতাশায় ভুগছেন।
স্থানীয় কৃষক সুমন শেখ, টিটু মোল্লা, রায়হান মোল্লা, লুৎফর রহমান, আব্দুস সালাম শেখ, কোরবান মোল্লা, শহিদ মোল্লা, মতিন মোল্লা ও রঞ্জু মোল্লা জানান, রিং কালভার্ট নির্মাণের সময় তারা তৎকালীন ইউপি সদস্য প্রয়াত মহৎ শেখকে বারবার অনুরোধ করেছিলেন কালভার্টটি নিচু করার জন্য। কিন্তু সেই অনুরোধ আমলে নেয়নি। আজ তারই কুফল ভোগ করছেন এলাকার কৃষকরা।
তাদের দাবি, দ্রুত রিং কালভার্টটি অন্তত ৫-৬ ফুট নিচু করে দেওয়া হোক এবং খাল পুনঃখননের ব্যবস্থা নেওয়া হোক, তাহলে বিলের পানি সহজে নিষ্কাশিত হবে এবং শত শত বিঘা জমি চাষের আওতায় আসবে।
এ বিষয়ে ইসলামপুর ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মোঃ মজিবর রহমান বলেন, “প্রায় ৬ বছর আগে খালটি খনন করা হলেও এরপর কোনো সংস্কার হয়নি। গজারিয়া খাল দিয়ে পানি নিষ্কাশনের ব্যাবস্থা থাকলেও উঁচু রিং কালভার্টের কারণে পানি আটকে যাচ্ছে। এতে কৃষকরা প্রতি বছর ক্ষতির মুখে পড়ছেন।”
বালিয়াকান্দি উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান, “আমি নিজেও এলাকাটি ঘুরে দেখেছি। এটি একটি পাকা সড়ক হওয়ায় কৃষি বিভাগের সরাসরি কিছু করার সুযোগ নেই। তবে বিআরডিবি, বিএডিসি, এলজিইডি এবং উপজেলা প্রশাসনের যৌথ উদ্যোগে সমস্যার সমাধান সম্ভব।”
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) চৌধুরী মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “বাংলাদেশ একটি কৃষিনির্ভর দেশ। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে। বিষয়টি আপনাদের মাধ্যমে জানতে পেরে ধন্যবাদ। দ্রুত সময়ের মধ্যে সরেজমিন পরিদর্শনে গিয়ে সমস্যার বাস্তবতা বুঝে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
ভুক্তভোগী কৃষকদের একটাই দাবি — কালক্ষেপণ না করে দ্রুত রিং কালভার্টটি অপসারণ বা নিচু করা হোক এবং খাল পুনঃখননের মাধ্যমে সুষ্ঠু পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হোক, যাতে কৃষকের ঘরে ফসল তুলতে আর ও অনিশ্চয়তা না আসে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM