হীরক খান মেহেরপুর প্রতিনিধিঃ
মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার সাহারবাটী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মোছাঃ আসমা তারার বিরুদ্ধে ঈদ-উল-আযহা উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ইউনিয়নের একাধিক ইউপি সদস্য এবং ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছে
অভিযোগপত্রে বলা হয়, চলতি ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরে ঈদ উপলক্ষে বরাদ্দকৃত ভিজিএফ চাল যথাযথভাবে বণ্টন না করে ব্যক্তিগতভাবে আত্মসাৎ করেছেন প্যানেল চেয়ারম্যান। গত ৪ জুন চাল বিতরণের কথা থাকলেও ইউনিয়নের ০১, ০২ ও ০৩ নম্বর ওয়ার্ডের শতাধিক হতদরিদ্র পরিবার চাল পাননি। কার্ড থাকা সত্ত্বেও তারা চাল না পেয়ে হতাশায় পড়েছেন।
অভিযোগ তুলে স্থানীয়রা বলেন, চাল বিতরণের কোনো স্বচ্ছতা ছিল না। বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনায় কোনো তালিকা বা সরকারি নিয়ম অনুসরণ করা হয়নি। বরং চেয়ারম্যান নিজের অনুসারীদের দিয়ে গোপনে চাল চুরি করেছেন।
একাধিক ইউপি সদস্য অভিযোগ করে বলেন, মোছাঃ আসমা তারা ইউনিয়ন পরিষদের কার্যক্রমে স্বেচ্ছাচারী ও একক কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা করেছেন। তিনি তার কথিত ‘লাঠিয়াল বাহিনী’ দিয়ে পরিষদের কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের হুমকি ও হামলার শিকার হতে হয়। এমনকি দুইজন ইউপি সদস্যকে মারধর করে গুরুতর জখম করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
সাহারবাটী ইউনিয়নের ০১ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মোঃ মহিবুল ইসলাম বলেন, চাল বিতরণে চরম অনিয়ম হয়েছে। কার্ডধারীরা চাল না পেয়ে ফিরেছে। আমরা প্রতিবাদ করলে আমাদের হুমকি দেওয়া হয়। এই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে এখনই কঠোর ব্যবস্থা নেয়া প্রয়োজন।
স্থানীয় ভুক্তভোগী এক বৃদ্ধা নারী বলেন,আমার নামের ভিজিএফ কার্ড আছে। কিন্তু চাল পাইনি। ঈদের সময় এই চালই ছিল একমাত্র ভরসা। এখন আমার পরিবারে ঈদের আনন্দ ম্লান হয়ে গেছে।
অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, এটি কোনো একক ঘটনা নয়। পূর্বেও একই ধরনের দুর্নীতি, অনিয়ম ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ মোছাঃ আসমা তারার বিরুদ্ধে রয়েছে। তবুও কার্যকর ব্যবস্থা না নেওয়ায় একই অপরাধ পুনরাবৃত্তি ঘটছে।
এলাকাবাসীর দাবি, শুধু তদন্ত নয়—দোষী প্রমাণিত হলে আইন অনুযায়ী কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ এ ধরনের দুঃসাহসিক দুর্নীতিতে লিপ্ত না হয়।
অভিযোগের ব্যাপারে মোছাঃ আসমা তারার সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। গণমাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতেও তিনি অস্বীকৃতি জানান।
এদিকে পুরো ইউনিয়নে এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়রা বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলেও জানা গেছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) আনোয়ার হোসেন বলেন, আমাদের কাছে লিখিত অভিযোগ এসেছে। আমরা বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখছি। তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM