রাজশাহী ব্যুরোঃ
পতিত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অধিকাংশ সময় দেশে সরকারিভাবে বিভিন্ন মৌসুমে ধান, চাল ও গম সংগ্রহের অভিযানের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হয়নি। তবে বর্তমান সরকার এগুলো ক্রয়ের জন্য লাভজনক দাম নির্ধারণ এবং শতকরা ২ ভাগ ইনসেপ্টা বোনাস প্রদানের ঘোষণা দেওয়ায় নির্ধারিত সময়ের ২ মাসের মধ্যেই অর্জিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন ঈশ্বরদী এলএসডি-১, সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা মো. তারেক-উজ-জামান সুমন ।
একই সঙ্গে লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে ঈশ্বরদী উপজেলার হাস্কিং মিল মালিকরা আন্তরিকতার সঙ্গে সহযোগিতা করছেন বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা যায় । ইতোমধ্যেই ঈশ্বরদী গো-ডাউন ৮০ শতাংশ অর্জন করেছে বলে উক্ত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা মো. তারেক-উজ-জামান নিশ্চিত করেছেন।
সরেজমিনে ঈশ্বরদী এলএসডি-১, সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা ও মিল মালিক সমিতির নেতারা এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
পাবনা জেলা খাদ্য কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ এপ্রিল থেকে অনানুষ্ঠানিকভাবে বোরো সংগ্রহ-২৫ মৌসুম শুরু হয়েছে। এ মৌসুমে ঈশ্বরদীতে চাল প্রদানে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে মোট ৯৮টি মিল মালিক। এর মধ্যে ৮২টি হাসকিং মিলস ও ১৬টি অটো মিলস। এসব মিলারের অধীনে ধান সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১৯৮ মেট্রিক টন, গম সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অনির্ধারিত ও চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ হাজার ১০০ মেট্রিক টন। সরকারিভাবে প্রতি কেজি ধান ও গমের মূল্য ৩৬ টাকা হিসেবে ও প্রতি কেজি চালের মূল্য ৪৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
ঈশ্বরদী উপজেলা হাসকিং মিল মালিক সমিতির সভাপতি মো. দুলাল মন্ডল গণমাধ্যমকে বলেন, গত বছর আমার নামে ১১ মেট্রিক টন চাল প্রদানের বরাদ্দ ছিল। কিন্তু দাম ভালো না থাকায় সরকারি গোডাউনে চাল দিয়ে ৩৩ হাজার টাকা লোকসান গুনতে হয়েছে।
শুধু মিলের লাইসেন্স রক্ষা করতে লোকসান দিয়েই বিগত ৮ বছর ধরে গোডাউনে চাল সরবরাহ করে আসছিলাম। অনেক মিল মালিক লোকসান হওয়ায় চাল সরবরাহ করা থেকে বিরত থেকেছে। এ কারণে তাদের মিলের লাইসেন্স বাতিল করা হয়েছে। এবার বাজার দরের চেয়ে কিছুটা দাম বেশি নির্ধারণ করায় মিলারদের এবার লোকসান গুনতে হবে না। বেশি লাভ না হলেও মিলারদের লোকসান হবে না। তাই সবাই স্বতঃফূর্তভাবে গোডাউনে চাল সরবরাহ করছেন।
তিনি আরো জানান , বিগত শেখ হাসিনা সরকারের সময় কয়েকজন মিলার মিলের লাইসেন্স রক্ষার্থে সরকারি দরে গোডাউনে চাল সরবরাহ করেছে । এতে তাদের লাখ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। বিডি বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। এবার চাউলের দাম কিছুটা ভালো দেওয়ায় আমরা দেশব্যাপী সরকারি চাল সংগ্রহ সফল করতে কাজ করছি। আশা করছি, চলতি সংগ্রহ মৌসুমে লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে।
তথ্যমতে মিলারদের যদি লোকসান হয় তাহলে সরকার ঘোষিত ২ শতাংশ ইনসেপ্টা বোনাস মিলারদের প্রদান করা হলে, সেই লোকসান পুষিয়ে নেওয়া যাবে। এই কারণে ২ শতাংশ ইনসেপ্টা বোনাস প্রদানের জন্য মিল মালিকদের পক্ষ থেকে সরকারের নিকট আকুল আবেদন জানানো হয়েছে।
ঈশ্বরদী এলএসডি-১, সংরক্ষণ ও চলাচল কর্মকর্তা মো. তারেক-উজ-জামান সুমন বলেন, কয়েক মাস হলো তিনি ঈশ্বরদীতে যোগদান করলেও সরকারি গোডাউনে চাল সংগ্রহে চলতি বোরো মৌসুমে ঈশ্বরদীর মিলাররা খুবই আন্তরিকতার পরিচয় দিচ্ছেন। ঈশ্বরদী গোডাউনে সংগ্রহের জন্য লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে ১০ হাজার ৫০ মেট্রিক টন। সংগ্রহের মেয়াদ ৩১ আগস্ট পর্যন্ত। কিন্তু ২৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয়ে মাত্র জুন মাসেই সংগ্রহ হয়েছে সাড়ে ৭ হাজার মেট্রিক টন। যা সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রার প্রায় ৭০ শতাংশ।
তিনি আরো বলেন, বৈরী আবহাওয়ার আগেই ভালোমানের চাল সংগ্রহের জন্য প্রতিনিয়ত চুক্তিবদ্ধ মিলার ও মিল মালিক সমিতির নেতৃবৃন্দের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করা হচ্ছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়ের আগেই এবার চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন করা সম্ভব হবে।
তাছাড়া চুক্তিবদ্ধ মিলাররা যেন কোনোরূপ হয়রানি বা ভোগান্তি ছাড়াই গোডাউনে চাল সরবরাহ করতে পারেন, সেদিকে জোড়ালো ভাবে দৃষ্টি রাখা হয়েছে। এজন্য তাদের সব ধরনের বৈধ সুযোগ সুবিধা প্রদান করা হচ্ছে।
এজন্য মিলাররা কোনোরূপ হয়রানি ছাড়াই স্বতঃফুর্তভাবে গোডাউনে চাল সরবরাহ করছেন। নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা অর্জিত হবে বলেও আশাবাদী এই কর্মকর্তা।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM