
নানাবিধ সমস্যায় জর্জরিত রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার পদ্মা পাড়ের জেলে পরিবার গুলো। এখানে শতাধিক জেলে পরিবারের দিন কাটছে একবেলা খেয়ে না খেয়ে। একদিকে নদীতে মাছের অভাব। অপরদিকে যা মাছ পাচ্ছে,তাও আবার বিক্রি করে ঠিক মত চলছে না সংসার।
বছরের পর বছর যারা জেলে পেশার সাথে জরিত তারা পাচ্ছে না সরকারী খাদ্য সহায়তা সহ কোন প্রকার সুযোগ সুবিধা। অন্যদিকে যারা জেলে পেশার সাথে জরিত নয়, এমন মানুষ রিকসা চালক, ভ্যান চালক,মোদি দোকানী,অটোরিকশা, চাকরীজিবী,কৃষক সহ নানা পেশার মানুষের নামে রয়েছে জেলেদের জন্য বরাদ্দ খাদ্য সহায়তার অধিকাংশ জেলে কার্ড। এমন অভিযোগ ওঠেছে জেলে পরিবারের গুলোর মধ্যে। এতে করে কোন সুযোগ সুবিধা না পেয়ে সংসারের বোঝা মাথায় নিয়ে প্রকৃত জেলেরা অভিযানের সময় ঝুঁকি নিয়ে নদীতে মাছ ধরার কারণে আটক হচ্ছে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে। তাতে জাল দড়ি হারিয়ে জেল জরিমানা দিয়ে নিঃস্ব হয়ে পড়েছে প্রকৃত জেলেরা।
এতে ক্ষিপ্ত জেলেরা বলছেন, প্রকৃত জেলেরা কোন সুযোগ সুবিধা পাচ্ছে না। এজন্য স্থানীয় জনপ্রতিনিধি সহ উপজেলার কিছু অসাধু মৎস্য কর্মকর্তাকে দায়ী করছেন তারা।
তবে জেলেদের কার্ড তৈরীতে অনিয়ম কথা স্বীকার করলেন জেলার সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোস্তফা আল রাজিব। বলেন, তরিঘরি করে জেলে কার্ড তৈরী করার কারণে মুলত যারা জেলে তাদের অনেকেরই নাম বাদ পড়েছে। চেষ্টা চলছে প্রকৃত জেলেদের নাম কার্ডে অন্তর্ভুক্ত করতে।
সরকারী হিসেবে এই উপজেলায় নিবন্ধিত জেলের সংখ্যা ১৬২৭জন। এর শুধু মাত্র ইলিশ মাছ স্বীকারী জেলের সংখ্যা ১০৩০ জন। যারা জাটকা ইলিশ নির্ধন অভিযানের সময় ৪ মাস ধরে প্রতিমাসে ৪০ কেজি করে চাউল অর্থাৎ মোট ১৬০ কেজি চাউল সরকারী অনুদান হিসেবে পায়। আর মা ইলিশ সংরক্ষণ কার্যক্রমের ২২ দিনের এই অভিযানে কার্ডধারী প্রতিটি জেলে ২৫ কেজি চাউল পায় বছরে অন্তত একবার। কিন্তু এত সব সুযোগ সুবিধা যারা পাচ্ছে তারা বেশিরই জেলে বা জেলে পেশার সাথে জরিত নয়।