সাতকানিয়ায় নিহত নিজামের স্ত্রী আরজুর আকুতি
নুরুল কবির সাতকানিয়া প্রতিনিধি
সাতকানিয়া উপজেলার এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা গ্রামে পূর্বপরিকল্পিতভাবে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় ব্যবসায়ী নেজাম উদ্দিন ও আবু ছালেককে। এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত করেছে স্বৈরাচারের দোসর সাবেক চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম প্রকাশ মানিক ও তার লালিত সন্ত্রাসী বাহিনী।
পুলিশ সুপারের বিভ্রান্তিকর বক্তব্য ও অস্ত্র নাটক: সম্প্রতি জেলা পুলিশ সুপার কার্যালয়ে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতু একটি বিভ্রান্তিকর ও সত্যবিকৃত বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি দাবি করেছেন যে, নিহত নেজাম উদ্দিন ও আবু ছালেক সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন এবং তাদের বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের অভিযোগ করেছেন। একইসাথে তিনি বলেছেন তাদের বিরুদ্ধে বেশ কয়েকটি মামলা রয়েছে। কিন্তু এই মামলাগুলো পতিত স্বৈরাচার সরকারের আমলে পেটুয়া পুলিশ বাহিনী কর্তৃক দায়েরকৃত মিথ্যা ও বানোয়াট মামলা। যেখানের অধিকাংশ মামলা মহামান্য আদালত ডিসমিস করেছেন ও করছেন। কিন্তু পুলিশ সুপার স্বপ্রনোদিত হয়ে সন্ত্রাসীদের বাঁচাতে এমন বক্তব্য দেয়ায় সাধারণ জনতার মাঝে জনরোষ তৈরি হয়েছে। তারা তার এই বক্তব্যের প্রতিবাদে রাস্তায় নেমেছেন এবং বিক্ষোভ করেছেন। তারা পুলিশ সুপারের এমন কল্পকাহিনির বক্তব্যকে ঘৃণা ভরে প্রত্যাখান করেছেন। দাবি জানিয়েছেন স্বৈরাচারের পেটুয়া পুলিশের কর্মকর্তার ভাষায় তিনি কথা বলেছেন, সেহেতু তাকে অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে। পাশাপাশি পুলিশ সুপারে বক্তব্যের ভিত্তিতে কিছু গণমাধ্যমও বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করেছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নিহত নেজাম উদ্দিন ও আবু ছালেক ছিলেন সাধারণ ব্যবসায়ী এবং এলাকায় সুপরিচিত ব্যক্তি। পুলিশ সুপারের এই বক্তব্য এবং অস্ত্র উদ্ধারের দাবি একটি নাটক মাত্র, যা হত্যাকারীদের রক্ষা ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের অপরাধী বানানোর চেষ্টা।
সাতকানিয়ার জোড়া হত্যাকাণ্ড: একটি পরিকল্পিত নৃশংসতা-এওচিয়া ইউনিয়নের ছনখোলা গ্রাম বহু বছর ধরে সন্ত্রাস কবলিত এলাকা। সাবেক চেয়ারম্যান মানিক ও তার বাহিনী বারবার এ অঞ্চলে সন্ত্রাসী হামলা, খুন-গুম ও লুটতরাজ চালিয়ে এসেছে। এই সন্ত্রাসী বাহিনী দীর্ঘদিন ধরে সাধারণ মানুষের পাহাড়, ইটভাটা, জমিজমা দখল করে আসছে। কেউ প্রতিবাদ করলে তাদের বিরুদ্ধে ভিত্তিহীন মামলা ও হত্যার ষড়যন্ত্র করা হয়।; নেজাম উদ্দিন ও আবু ছালেককে হত্যার পেছনে মূল উদ্দেশ্য ছিল তাদের ব্যবসা ও জমিজমার ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা। তাদেরকে বিচার করার কথা বলে ডেকে এনে গণপিটুনির নামে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে। এই একই কৌশলে২০১৬ সালে মানিক চেয়ারম্যানের নেতৃত্বে জামায়াত কর্মী আবুল বশরকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছিল।
এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের বিচার চেয়ে আমরা নিম্নলিখিত দাবি উত্থাপন করছি-১. পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত চিহ্নিত খুনিদের অবিলম্বে গ্রেফতার করতে হবে।২. এই হত্যাকাণ্ডের গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে মামলা দিতে হবে।৩. চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার সাইফুল ইসলাম সানতুর বিভ্রান্তিকর বক্তব্য অবিলম্বে প্রত্যাহার করতে হবে।৪. নেজাম ও আবু ছালেকের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে দেওয়া মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে।৫. চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপারকে অপসারণ ও বদলি করতে হবে।৬. সন্ত্রাসীদের মদতদাতা ও হত্যাকাণ্ডে সংশ্লিষ্ট সকল রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনতে হবে। প্রতিবাদ কর্মসূচি ও হুঁশিয়ারি: এই হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু বিচারের দাবিতে আমরা প্রধান উপদেষ্টা, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা, মানবাধিকার সংস্থাগুলো ও দেশের সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। সাতকানিয়ার নিরীহ জনগণকে সন্ত্রাস ও জুলুমের হাত থেকে মুক্ত করতে সরকার, প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে। অন্যথায় সাতকানিয়ার সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণ করবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM