রাজশাহীতে চিকিৎসক অপহরণ, ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি।
রাজশাহী ব্যুরো ঃ রাজশাহী শহরে এক চিকিৎসককে অপহরণের পর ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবির ঘটনা ঘটেছে। চন্দ্রিমা থানা এবং র্যাব-৫ এর যৌথ অভিযানে বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) বিকেল ৪টার দিকে রাজপাড়া থানাধীন বিলশিমলা এলাকার রায়সা কমপ্লেক্সের একটি ভবন থেকে দুই অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এ সময় অপহৃত চিকিৎসক জাকির হোসেন অমিকেও উদ্ধার করা হয়।
অপহৃত চিকিৎসক জাকির হোসেন অমি রাজশাহী জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক। তার গ্রামের বাড়ি রাজশাহীর বাগমারা উপজেলার ভবানিগঞ্জ গ্রামে। বর্তমানে তিনি নগরীর চন্দ্রিমা থানার ছোট বনগ্রাম ব্যাংক টাউন আবাসিক এলাকায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ভাড়া বাড়িতে বসবাস করছিলেন।
জাকির হোসেন অমি জানিয়েছেন, ১৫ জানুয়ারি দিনগত রাত ২টার দিকে তিনি সিএনজি চালিত অটোরিকশা নিয়ে তার গ্রামের বাড়ি থেকে রাজশাহী শহরের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পৌনে ৩টার দিকে তিনি তার বাসার প্রবেশ গেটের সামনে পৌঁছালে ৬-৭ জন ব্যক্তি তাকে জোর করে মোরসাইকেলে তুলে নিয়ে যায়। এরপর তারা তাকে বিলশিমলা এলাকায় অবস্থিত রায়সা কমপ্লেক্সের একটি ভবনে নিয়ে গিয়ে ব্যাপক মারধর করে। অপহরণকারীরা এরপর একটি ফাঁকা স্ট্যাম্পে তার স্বাক্ষর নেয় এবং ২ কোটি ৭০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করে।
চন্দ্রিমা থানা ও র্যাব-৫ এর যৌথ অভিযানিক দলের সদস্যরা দ্রুত তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে অপহরণকারীদের অবস্থান চিহ্নিত করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ১৬ জানুয়ারি বিকেলে রায়সা কমপ্লেক্স থেকে ২ অপহরণকারীকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং অপহৃত চিকিৎসক জাকির হোসেন অমিকেও উদ্ধার করা হয়।
গ্রেপ্তার দুই অপহরণকারী হলেন- মো. আব্দুর রশিদ ও তার ড্রাইভার মীম। আব্দুর রশিদ একজন ডেভলপার। তার রায়সা কমপ্লেক্স নামে বিলশিমলা এলাকায় দুটি ভবনের নির্মাণ কাজ চলমান রয়েছে। বোয়ালিয়া থানাধীন উপশহর এলাকার মহসিনের ছেলে, তার গ্রামের বাড়ি গোদাগাড়ী। মীম আব্দুর রশিদের ব্যক্তিগত ড্রাইভার। সে রাজপাড়া থানার ডিঙ্গাডোবা এলাকার মো. মোশারফের ছেলে।
তবে অপহরণকারী আব্দুর রশিদের দাবি জাকির হোসেন অমি বিগত সরকারের আমলে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে মেডিক্যাল কলেজে ব্যাপক আধিপাত্য বিস্তার করে, চাঁদাবাজিসহ মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছিলেন। এছাড়াও তার একটি মুল্যবান জমি ১৪নং ওয়ার্ড কাউন্সিলর আনানের দখলে ছিল। সমাধান করে দিবে বলে ছাত্রলীগ নেতা জাকির হোসেন অমি ২ কোটি ৪০ লাখ টাকা নিয়েছে তার কাছ থেকে। এবং এ টাকা সাবেক মেয়র এএইচএম খায়রুজ্জামান লিটনকে এক কোটি টাকা তার মেয়ে অর্ণাজামানকে ৫০ লাখ, কাউন্সিলর আনারকে ৫০ লাখ এবং তারা ৪০ লাখ টাকা নিয়েছে বলে জানায়। পরবর্তীতে সে কোনো সমাধান করে দেয়নি। ফলে তাকে তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।
এদিকে খোজ নিয়ে জানা গেছে, আব্দুর রশিদ পেশায় একজন রাজ মিস্ত্রি ছিলেন। রাজশাহী-১ আসনে সাবেক এমপি ফারুক চৌধুরীর সাথে আতাৎ করে মাদকের গডফাদার বনে যান। পরে সাবেক মেয়র খায়রুজ্জামান লিটনের সাথে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেন। এরপর থেকে তাকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি। রাজশাহী, গোদাগাড়ীসহ ঢাকায় গড়েছেন সম্পদের পাহাড়।
চন্দ্রিমা থানার সেকেন্ড অফিসার এসআই মহিউদ্দিন জানান, গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদ্ধার করা হয়েছে, যা অপহরণের মূল পরিকল্পনার সাথে সংশ্লিষ্ট।
চন্দ্রিমা থানার পুলিশ ইতোমধ্যে অপহরণকারী দের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেছে। তাদের বিরুদ্ধে অপহরণ, মুক্তিপণ দাবি এবং মারধরের অভিযোগ আনা হয়েছে। পুলিশ ও র্যাব আরো তদন্ত চালিয়ে যাচ্ছেন এবং অন্য জড়িতদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে।
এ ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে, তবে পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায় যে, তারা শিগগিরই পুরো চক্রটির বাকি সদস্যদের ধরতে সক্ষম হবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM