দুর্ঘটনায় বাবা-মা ও একমাত্র ভাইকে হারিয়ে নির্বাক শিশু ফাহিম
স্টাফ রিপোর্টার: রিমন হোসেন
বুধবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সাভারে ঢাকাগামী অ্যাম্বুলেন্স দুর্ঘটনার শিকার হয়। ফাহিমের বাবা ফারুক হোসেন সিদ্দিকী ভবনদত্ত সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। ফাহিমের অসুস্থ ভাই ফুয়াদ সিদ্দিকীকে নিয়ে গত বুধবার রাত ১১টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন পরিবারের সদস্যরা। পথিমধ্যে অ্যাম্বুলেন্সটি দুর্ঘটনার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায় সেখানেই ফাহিমের বাবা,মা ও ভাই মারা যায়। ফাহিমের গ্রামের বাড়ি টাংগাইল,ঘাটাইল ভবনদত্ত গ্রামে।
গত বৃহস্পতিবার রাতেই বাবা-মা ও ভাইকে সবাই মিলে কবর দিয়েছে। প্রতিবেশী ও স্বজনেরা আসছেন তাদের বাড়িতে। তাকে ধরে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন কেউ কেউ। কিন্তু ফাহিমের মুখে কোনো কথা নেই। শুধু ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে থাকছে।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, তাঁদের মৃত্যুর খবর বৃহস্পতিবার সকাল ৭টার দিকে বাড়িতে পৌঁছে। তখনই স্বজনদের কান্নার রোল শুরু হয়। কান্না শুনে প্রতিবেশীরা এগিয়ে এসে জানতে পারেন এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনার খবর। ফাহিম পাশের গোপালপুর উপজেলায় একটি মাদ্রাসায় হোস্টেলে থেকে নুরানি বিভাগে পড়ত। গতকাল স্বজনেরা তাকে গোপালপুর থেকে বাড়িতে নিয়ে আসেন। চাচা মামুন সিদ্দিকীসহ স্বজনেরা তাকে ধরে কান্নাকাটি শুরু করেন। কিন্তু ফাহিম ছিল নির্বাক। গতকাল রাতে বাবা, মা, ভাই, খালার লাশ তাঁদের বাড়িতে এসে পৌঁছায়। এ সময় ফাহিমের খালা সীমা আক্তারের ছেলে মোরসালিন কান্নায় ভেঙে পড়ে। মোরসালিনকে ফাহিম সান্ত্বনা দিয়ে বলে, তোমার তো বাবা বাঁইচা আছে, আমার তো কেউ নাই।
ফাহিমের চাচা মামুন সিদ্দিকী জানান, ফাহিম তাঁদের সঙ্গে রয়েছে। বাবা, মা ও ভাইকে কবর দিয়ে আসার পরও ছিল চুপচাপ। আজ সকালে উঠে শুধু বলেছে, ‘বাবা নাই, মা নাই, কে আমারে মাদ্রাসায় নিয়া যাবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM