ঘাটাইলে সরকারি জায়গা দখল করে মার্কেট নির্মাণ।
মো:ফারুক আহমেদ ঘাটাইল টাঙ্গাইল
টাঙ্গাইলের ঘাটাইলে কয়েক কোটি টাকা মূল্যের সরকারি খাস জমি অবৈধভাবে দখল করে মার্কেট নির্মাণ করেছেন ভূমিদস্যু একটি চক্র। ঘাটাইল টু ভুয়াপুর আঞ্চলিক সড়কের ১০৭ নং জে,এল ও ৭১ নম্বর দাগের খাস খতিয়ান ভুক্ত ঘাটাইল উপজেলার আনেহলা ইউপির মাকেশ্বর বাজারের দুই পাশে প্রায় ৭০টি ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন তারা। এরমধ্য আব্দুস সালাম, ফনি শাহ, বাইস কাইলের হায়দর খান, গৌরাঙ্গির খোরশেদ, মাকেশ্বরের আনোয়ার, বাইসকাইলের লাল মিয়া ডাক্তার, স্থানীয় ছালামের ছেলে মাসুম, মনোয়ারা, শিমলার দুদু মিয়া, স্থানীয় সবুজ মিয়া, মিজানুর, সাহেব আলী, কালাম মিয়াসহ আরো অনেক প্রভাবশালী ব্যক্তি।
অপরদিকে মার্কেটের পিছনের জমির মালিকদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী জমির সামনে ঘর বা মার্কেট উঠানোর কথা আমাদের থাকলেও চেয়ারম্যান শাহজাহানের সহযোগিতায় আওয়ামী লীগের লোকেরা মোটা অংকের টাকা ঘুষ দিয়ে সরকারি জমি দখল করে এই মার্কেট নির্মাণ করে ভাড়া প্রদান করেছেন। এতে সহযোগিতা করেছেন সাবেক এমপি আমানুর রহমান খান রানার আর্শিবাদ পুষ্ট সাবেক চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা তালুকদার মোহাম্মদ শাহজাহান (ডলার শাজাহান)। এছাড়া মার্কেটের পিছনে যাদের জমি রয়েছে তাদের কাউকেই দোকানের জায়গা বরাদ্দ দেওয়া হয়নি। তাদের ভয় দেখিয়ে জিম্মি করে ক্ষমতার দাপটে মার্কেট নির্মাণ করেছেন। অথচ নিয়ম অনুযায়ী পিছনের জমির মালিকরা সামনের অংশ ভোগ করার কথা।
গত ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা পালিয়ে যাওয়ার পর তার দলের নেতাকর্মীরা গা ঢাকা দিলে বঞ্চিত জমির মালিকদের মধ্য ক্ষোভের সঞ্চার হয়েছে। এ ব্যাপারে ভুক্তভোগী জমির মালিকরা একত্রিত হয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার বরাবর একটি অভিযোগ করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শুধু জুলহাস উদ্দিন নামে এক ব্যক্তি একাই ১০টি ঘর তৈরি করে দোকান ভাড়া দিয়ে মোটা অংকের টাকা মাসিক ভাড়া উত্তোলন করছেন। তিনি সরকারের কোন নিয়ম নীতির তোয়াক্কা না করে আওয়ামী লীগের বাহামভুক্ত লোকজনের ছত্রছায়ায় ঘরগুলো নির্মাণ করে পজিশন ভাড়া দিয়েছেন। এভাবে অনেকেই আরো ৭০টির মত ঘর নির্মাণ করে ভাড়া দিয়েছেন।
স্থানীয় আজহারুল ইসলাম জানান, আগে রাস্তার দুই পাশেই খালি জায়গা ছিল। আট-দশ বছর আগে এলাকার লোকজন মিলে ঘর উঠিয়ে ব্যবসা করছে। এই জায়গা সরকারের খাস খতিয়ানের আওতাভুক্ত। সরকার যদি চায় তাহলে যেকোন সময় মার্কেট ও দোকানঘর ভেঙে দিতে পারে। এতে কারও আপত্তি থাকার কথা না।
আব্দুস সালাম নামে এক ব্যক্তি বলেন, জায়গাটি মুলত বিমল নামে এক হিন্দু ব্যক্তির অধিনে ছিল। আওয়ামী লীগের লোকজন মিলে তাকে এখান থেকে সরিয়ে দিয়ে জায়গাগুলো দখল করেছে। সরকার ইচ্ছে করলে যেকোন সময় এই খাস জমি উদ্ধার করতে পারে।
অবৈধভাবে সরকারি জমি দখল করা জুলহাস উদ্দিন ঘর উঠানোর বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, সরকারি জায়গায় ঘর উঠানোর কোনো নিয়ম নেই। সরকার যদি ঘর ভেঙে দেওয়ার জন্য নোটিশ দেয় অথবা ব্যবস্থা গ্রহণ করে তাহলে কোনো আপত্তি নেই।
তিনি আরো বলেন, এখানে যতগুলো ঘর আছে সবগুলো সরকারি খাস জমির ওপর।
অভিযোগ কারি মো. শুভ খান বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যাদের দাপট ছিল, ক্ষমতা ছিল তারাই ক্ষমতার অপব্যবহার করে রাতারাতি ঘরগুলো উঠিয়ে ফেলেছেন। আমরা সরকারি এই জায়গা উচ্ছেদ চাই।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার শারমীন ইসলাম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। সহকারী কমিশনার (ভূমি) কিশোর কুমার দাসকে বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে দেখার জন্য নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। সরকারি জায়গায় কেউ অবৈধ স্থাপনা বা ব্যবসা প্রতিষ্ঠান স্থাপন করলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM