রাজবাড়ীতে সাবেক রেলমন্ত্রী সহ ১০ জনের নামে মামলা।
জেলা প্রতিনিধি রাজবাড়ী
কৃষ্ণ কুমার সরকার
মামলার বিবরনে যানাযায় যে, আসামীগন বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ, রাজবাড়ী জেলা শাখা ও বালিয়াকান্দি থানা শাখা প্রভাবশালী নেতা হইতেছেন। ২নং আসামী বালিয়াকান্দি থানার তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ থাকলেও অন্যান্য আসামীর দ্বারা অবৈধ ভাবে প্রভাবিত হইয়া তাহাদের মনোরঞ্জন এর জন্য পুলিশ বাহিনীর কর্তব্যের বাহিরে গিয়ে সরকার বিরোধী নেতা কর্মীদের অপহরন বেআইনী আটক অবৈধ টাকা আদায়ের মত ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন। বাদী বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের বালিয়াকান্দি উপজেলার যুগ্ম আহবায়ক ছিলেন এবং গনতান্ত্রিক আন্দোলনে শান্তিপূর্ন ও সক্রীয় অংশ গ্রহন করায় আসামীগনের বিরাজ ভাজন হইয়া পরেন। বাদী বালিয়াকান্দি সরকারী কলেজ হইতে ডিগ্রী পাশ করিয়াছেন। রাজনৈতিক ভিন্ন মতের কারনে আসামীগন বাদীর প্রতি অতিশয় সংক্ষুব্ধ ছিলেন। আসামীগন পরস্পর যোগসাজসে যেনতেন ভাবে বাদীর অপহরন গুম ও চাঁদা আদায়ের জন্য নির্যাতনসহ খুনের চেষ্টায় লিপ্ত থাকিয়া সকল আসামীগন বাদীকে অপহরন গুম নির্যাতন সহ খুনের জন্য একই উদ্দেশ্য সিদ্ধিকল্পে পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক গত ইং ১২/১/১৪ তারিখ দুপুর অনুমান ২:০০ (দুই) ঘটিকার সময় ১নং আসামীর হুকুমে ৩-১০নং আসামীগন এবং অজ্ঞাতনামা ০৩ জন আসামী বাদীকে বালিয়াকান্দি কলেজ মাঠ এর পিছন রাস্তা হইতে একটি সাদা রংয়ের হায়েজ গাড়ীতে আসিয়া ৪নং আসামী বাদীর বুকে পিস্তল ধরিয়া ৮নং আসামী বাদীর মাথায় রিভলভার তাক করিয়া ও ৬নং আসামী ওয়ান সুটার গান বাদীর বুক চাপিয়া ধরিয়া ও ১০নং আসামীর হাতে থাকা পিস্তল বাদীর পিঠে ঠেকাইয়া ৩নং আসামী এহসানুল হাকিম সাধন, ৫নং আসামী নাছির উদ্দিন এবং ৭ নং
আসামী আবুল কালাম আজাদ ও অজ্ঞাত নামা আসামীগনের সহায়তায় বাদীর হাত, মুখ বাধিয়া জোর পূর্বক হায়েজ গাড়ীর ভিতর উঠাইয়া ৪নং আসামী নায়েব আলীর বসতি বাড়ীতে লইয়া একটি নির্জন কক্ষে আটক রাখিয়া খুন করিবার জন্য সাদা পোশাকে থাকা ২নং আসামী আবু সামা মোঃ ইকবাল বাদীর পা ধরিয়া উল্টো করিয়া ঝুলাইয়া বাদীর উভয় পায়ের তালুতে আনুমানিক ২০০টি বেতের বারি মারে ফলে বাদীর পা ফুলে রক্ত জমাট হইয়া যায়। ৫নং আসামী বাদীর দুই হাতের তালুতে আনুমানিক ১০০টি বারি মারিয়া উভয় তালুতে রক্তজমাট ফাটা থেৎলানো বেদনা যুক্ত আঘাত করেন। ২/৩নং আসামীদ্বয় বাদীর নিকট ১০,০০০০০/= (দশ লক্ষ) টাকা চাঁদা দাবী করিয়া প্রকাশ করে যে, তোরে প্রানে বাঁচতে হলে ১০,০০০০০/= টাকা দিতে হবে বলিয়া বাদীর পিতাকে ঐ সময় সংবাদ পাঠায়। বাদী অপারগতা প্রকাশ করায় ২/৩নং আসামীদ্বয় চাঁদার টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে বাদীর মেরুদন্ডে নিম্নভাগ হইতে উপরিভাগ পর্যন্ত আঘাত করিয়া পঙ্গু করিবার জন্য বাদীকে মাটিতে ফেলিয়া ৩-১০নং আসামীগন বাদীর হাত পা চাপিয়া ধরিয়া রাখে এবং ২নং আসামী বাদীর পিঠের উপর উঠিয়া পায়ের বুট দিয়া পঙ্গু করিবার উদ্দেশ্যে বাদীর মেরুদন্ডসহ সর্বোত্র ২৫/৩০টি লাথি মারিয়া মেরুদন্ডের সি-৪, সি-৬ ডিক্স ভাঙ্গিয়া ফেলে। ফলে বাদী পঙ্গু হইয়া যায় এবং বাদী উঠা বসা হাটা চলা করিতে পারিতেন না। ২ ও ৮নং আসামীসহ অন্যান্য আসামীগনের পরস্পর সহায়তায় বাদীর বাম হাতে ইলেক্ট্রিক সক মেশিন দিয়া বাদীকে উপর্যপরি ইলেক্ট্রিক সক প্রদান করে ফলে বাদী অজ্ঞান হইয়া যায়। আসামীগন বাদীকে ৪নং আসামী নায়েব আলীর বাসায় গোপন কক্ষে সারারাত বেআইনী
ভাবে আটক রাখে। পরবর্তীতে ঐ রাতে বাদীর পিতা ঘটনাস্থলে উপস্থিত হইলে তাকে ৫,০০০০০/= (পাচ লক্ষ) টাকা চাঁদা দিতে বাধ্য করে এবং বাদীর পিতা বাদীকে অজ্ঞান ও মুমুর্ষ অবস্থায় দেখিয়া অতিকষ্টে ৫,০০০০০/= (পাচ লক্ষ) টাকা সংগ্রহ করিয়া চাঁদা বাবদ ২ ও ৪নং আসামীর হাতে প্রদান করেন। উক্ত টাকা ২-১০নং আসামীগনসহ অজ্ঞাতনামা আসামীগন ভাগ করিয়া লয়েন। তৎপর অন্যান্য আসামীগনের কু যুক্তিতে ২নং আসামী নিজে সরকারী কর্তব্যের বাহিরে গিয়ে বেআইনী ভাবে ব্যক্তিগত লাভের জন্য ও অন্যান্য আসামীগনকে খুশি করিবার জন্য বাদীকে অপহরন ও চাদা আদায়ের ঘটনা ভিন্ন খাতে প্রভাবিত করিবার জন্য ২নং আসামী বাদীকে বালিয়াকান্দি থানায় লইয়া গিয়া পেন্ডিং মামলায় চালান দেয় এবং ২নং আসামী অবৈধ প্রভাব খাটাইয়া বাদীকে কোর্টে চালান দেওয়ার পর বাদী পুলিশ প্রহরায় বালিয়াকান্দি ও কারা হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করিয়া সুস্থ্য না হওয়ায় অত্র মামলায় বাদীর অবস্থা ক্রমাগত খারাপ হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত হইতে বাদী জামিনে মুক্তি পাইয়া ৫-৯নং সাক্ষীদের মাধ্যমে চিকিৎসা লয়েন এবং পরবর্তীতে সুস্থ্য না হইলে ভারতের চেন্নাই এ্যাপোলো হাসপাতাল ও ভ্যালুর এর সিএনসি হাসপাতালে চিকিৎসা গ্রহন করেন এবং ইবনেসিনা হাসপাতালে বাদীর মেরুদন্ডের অস্ত্র পাচার করিয়া সি-৪, সি-৬ ডিক্স পরিবর্তন করিয়া কৃত্রিম ডিক্স স্থাপন করা হয়। বাদীর স্পাইনাল কডে মারাত্ম ক্ষতি হইয়াছে। তার জরুরী অপারেশন প্রয়োজন। বাদী এখন পর্যন্ত সুস্থ্য নহে। তাহার ডান হাত ও ডান পা প্রায় পঙ্গু হইয়া গিয়াছে। বাদী নিজ খরচ সংকুলান করিতে না পারায় বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দ্বারস্থ হই।
আসামি গন হলো -
১, মোঃ জিল্লুল হাকিম
সাবেক রেল মন্ত্রী
২, আবু সামা মোঃ ইকবাল হায়াত
ততকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বালিয়াকান্দি থানা।
৩, এহসানুল হাকিম সাধন
৪, নায়েব আলী
৫, নাছির উদ্দীন
৬, নজরুল ইসলাম
৭, আবুল কালাম আজাদ
৮, জহুরুল ইসলাম
৯, মোঃ কালাম
১০, মিতুল হাকিম
সহ অজ্ঞাত নামা ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করেন একজন ব্যবসায়ি।
মোঃ তুহিনুর রহমান,
পিতা আঃ মালেক।
বালিয়াকান্দি থানার বিলধামু গ্রামের বাসিন্দা।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM