কোটাবিরোধী আন্দোলন : রাবিতে ক্লাস পরীক্ষা বর্জন ও রেলপথ অবরোধের ঘোষণা।
রাজশাহী ব্যুরো ঃ সরকারি চাকরিতে জারি করা ২০১৮ সালের পরিপত্র পুনর্বহাল ও কোটাপদ্ধতি সংস্কারের দাবিতে পথনাটক, গান, কবিতা পরিবেশন করে এবার ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানিয়েছেন রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীরা। দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত আগামীকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল বিভাগের ক্লাস-পরীক্ষা ও বাস চলাচল বন্ধের ঘোষণা দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এছাড়া কালকের কর্মসূচির অংশ হিসেবে বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেললাইন অবরোধ করা হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
রোববার (৭ জুলাই) বিকেল সাড়ে চারটার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্যারিস রোডে আয়োজিত কর্মসূচিতে এসব কথা জানান আন্দোলনকারীরা। ‘কোটাপদ্ধতি সংস্কার আন্দোলন, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়’-এর ব্যানারে এসব কর্মসূচি পালন করা হয়। এর আগে বিকাল ৩টা থেকেই শিক্ষার্থীরা প্যারিস রোডে জড়ো হতে থাকেন। পরে বিকাল ৪টার দিকে বিপ্লবী গান, পুঁথিপাঠ, কবিতা ও পথনাটক করে সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ জানান তারা।সাংস্কৃতিক প্রতিবাদ শেষে কালকের কর্মসূচির ঘোষণা দেন কোটাপদ্ধতি সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক ও ছাত্রলীগ নেতা রেজওয়ান গাজী মহারাজ। তিনি বলেন, ‘আগামীকাল থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস, পরীক্ষা বর্জন ও বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস চলাচল বন্ধ রাখা হবে। আমাদের দাবি আদায় নাহলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে। এরই ধারাবাহিকতায় কালকে সকাল ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন রেলপথ অবরোধ করা হবে।’ বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল হল থেকে খণ্ড খণ্ড মিছিল নিয়ে শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে যোগদানের জন্য আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার্থীরা চারটি দাবি উত্থাপন করে আন্দোলন করছেন। দাবিগুলো হলো ২০১৮ সালের পরিপত্র বহাল সাপেক্ষে কমিশন গঠন করে সরকারি চাকরিতে কোটাপদ্ধতি সংস্কার, কোটায় প্রার্থী না পাওয়া গেলে মেধা কোটায় শূন্যপদ পূরণ; জীবদ্দশায় সব ধরনের সরকারি প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় একবার কোটার ব্যবহার (এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয় ভর্তি পরীক্ষা অন্তর্ভুক্ত); প্রতি জনশুমারির সঙ্গে অর্থনৈতিক সমীক্ষার মাধ্যমে বিদ্যমান কোটার পুনর্মূল্যায়ন নিশ্চিত এবং দুর্নীতিমুক্ত, নিরপেক্ষ ও মেধাভিত্তিক আমলাতন্ত্র নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা।
কর্মসূচিতে শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন লেখা-সংবলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করেন। সেই সঙ্গে শিক্ষার্থীরা ‘সারা বাংলা খবর দে, কোটা পদ্ধতির কবর দে’, ‘দেশটা নয় পাকিস্তান, কোটার হোক অবসান’, ‘আদায় হবে দাবি, পথ দেখাবেবিশ্ববিদ্যালয়ের কোটাপদ্ধতি সংস্কার আন্দোলনের সমন্বয়ক ও রাকসু আন্দোলন মঞ্চের সদস্য সচিব আমানুল্লাহ আমান বলেন, ‘আজকে গান, কবিতা, পথনাটক পরিবেশন করে কোটার বিরুদ্ধে ব্যতিক্রমী প্রতিবাদ জানানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে হতাশ হওয়ার কিছু নেই। নির্বাহী বিভাগের সম্মান রক্ষার্থে ও ২০১৮ সালে কোটা বাতিলের দাবিতে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া কথা বাস্তবায়ন করার জন্য হলেও শিক্ষার্থীরা রাজপথে থাকবেন।’
২০১৮ সালের ৪ অক্টোবর সরকারি চাকরিতে (৫৬ শতাংশ) কোটা বাতিল করে পরিপত্র জারি করে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়। এরপর থেকে টানা সাড়ে পাঁচ বছর কোনো কোটা ছাড়াই নবম থেকে ১৩তম গ্রেডে নিয়োগ হয়। ২০২১ সালে ওই পরিপত্রের ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল হওয়ার অংশটিকে চ্যালেঞ্জ করে কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হাইকোর্টে রিট করেন। গত ৫ জুন এই রিটের রায়ে পরিপত্রের ওই অংশ অবৈধ ঘোষণা করেন হাইকোর্ট। ফলে সরকারি চাকরিতে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা বহাল থাকবে।এরপর থেকে শুরু হতে থাকে নানা আলোচনা-সমালোচনা এবং বিক্ষোভ ও আন্দোলন। গত বৃহস্পতিবার আপিল বিভাগের শুনানিতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত হয়নি। আবেদনের শুনানি মুলতবি রাখা হয়েছে।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান, বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা। অস্থায়ী প্রধান কার্যালয় - সোনারগাঁ,নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা -বাংলাদেশ। Reg : TL-1061, fb: daily nayakontho, e-mail :[email protected], [email protected],web:www.dailynayakontho.com,
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM