বিয়ের পর সাংসারিক জীবনের সুখপাখিটা ধরে রাখার দায়িত্ব কার ?
বিয়ের পর স্ত্রী হিসেবে স্বামীর প্রতিটি সমস্যার বিষয়ে আপনাকে যদি মা-বাবার কাছে পরামর্শ নিতে হয় , তাহলে আপনি বিয়ে করছেনই বা কেনো?
আপনার বিয়ে করার বয়স অনেক আগেই পার হয়েছে , মানে সিদ্ধান্ত নেবার বয়স হয়েছে। কিন্তু, বিয়ের পর প্রতিটি সিদ্ধান্ত যদি মা-বাবার বাড়িতে গিয়ে তাদের জিজ্ঞেস করে নিতে হয়, তাহলে আপনি স্ত্রী হিসেবে স্বামীর কাছে ভালোবাসা হারাবেন।
শ্বশুরবাড়ির লোকজনের কোনো কথাই আপনার পছন্দ হয় না , সে কারণে অধিকাংশ সময়ে আপনি বাপের বাড়ি গিয়ে আপনার বাপ - মা , ভাই - বোনের পরামর্শ মতো চলেন । স্বামীর বাড়ির কোনো সিদ্ধান্তই আপনার পছন্দ না । দুকলম লেখাপড়া করে নিজেকে অনেক বিজ্ঞ ভেবে বুঝতেই চান না যে, সংসার জীবন খুব সহজ না । এখানে সব কিছু মেনে না চললে এটার ফল আসলেই নেতিবাচক। সাময়িক মনে হতে পারে কোনো অসুবিধা তো হচ্ছে না। কিন্তু, আপনার শশুরবাড়ির লোকজনের মনে ক্ষোভ জন্ম নেয়, এক সময় আপনার কারণেই আপনার স্বামীর ভালবাসা বিলীন হয়ে যাবে ।
মাঝেমধ্যে আপনার ইচ্ছেকে প্রাধান্য দিয়ে আপনার স্বামী পরিবারের সাথে খারাপ আচরণ করলে আপনি মনে করেন , আপনি সংসার জীবনে জিতে গেছেন । আসলে তা ঠিক নয় ।
আপনি পারিবারিক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তে অবশ্যই মা-বাবার পরামর্শ নিবেন, তাদেরকে শ্রদ্ধা করবেন। কিন্তু, স্ত্রী হিসেবে শ্বশুরবাড়ির প্রতি আপনার শ্রদ্ধাবোধ না থাকলে সুখ নামের শুখপাখিটা আপনার কাছ থেকে হারিয়ে যাবে ।
স্ত্রীরা বেশিরভাগ কথা মায়ের সাথে শেয়ার করে। স্বামী/ স্বামীর পরিবার কী করলো, কী বললো, স্বামীকে এটা কীভাবে বলবে, স্বামীর কাছে কীভাবে চাইবে এগুলো নিয়ে তারা মায়ের পরামর্শ গ্রহণ করে ।
বিয়ের পর গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু ছাড়া দৈনন্দিন এসব ব্যাপারে মেয়ের মা যতো জড়িত হবে, পারিবারিক অশান্তি ততো বাড়বে।
মা যদি জিজ্ঞেস করে, “এটা বলার পর জামাই কী বললো?” স্ত্রীর তখন স্পষ্টভাবে বলা উচিত- দুঃখিত মা, ও আমাকে কী বলেছে সেটা তোমাকে বলতে পারবো না।”
একজনের স্ত্রী হিসেবে স্বামীর প্রতি আপনার এই আত্মসম্মান থাকা উচিত।
আপনার দাম্পত্য জীবন নিয়ে নিজের মা-বাবার অতিউৎসাহ দেখলে তাদেরকে সম্মানের সাথে নিরুৎসাহিত করুন। এবং শ্বশুরবাড়ির পরিবারকে আপন ভাবুন । তাহলেই সুখ আপনার নাগালের মধ্যে থাকবে ।
প্রকাশক - শেখ রবিউল ইসলাম রবি, সম্পাদক - মোঃ আনিসুর রহমান,
বার্তা সম্পাদক - শারীদ মোল্লা
কপিরাইট © প্রকাশক কর্তৃক সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত | দৈনিক নয়া কন্ঠ | Developed by UNIKBD.COM